সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

  • আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ০৮:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ০৮:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে
টাঙ্গুয়ার হাওর কেবল একটি জলাভূমি নয় - এটি একটি জীবন্ত প্রাণতন্ত্র, যেখানে হাজারো প্রজাতির মাছ, পাখি, উদ্ভিদ এবং হাওরবাসীর জীবনের গল্প বয়ে চলে যুগের পর যুগ। রামসার ঘোষণাপ্রাপ্ত এই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমিটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের প্রতীক, কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই গর্ব এখন পরিণত হয়েছে এক আশঙ্কাজনক বাস্তবতায়। গত ২ জুলাই স্থানীয় দুটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন- ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন’ এবং ‘পর্যটনের নামে ধ্বংস হচ্ছে টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য’ - সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীরের দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই সাড়া শুধু আইনি নয়, এটি এক নৈতিক প্রতিবাদ - প্রকৃতি যখন চিৎকার করে, তখন অন্তত একজন শ্রবণশীল থাকেন। এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়ার সূচনা নয়, বরং রাষ্ট্রকে একটি বার্তা - এই হাওরের কান্না শুধু আদালত শুনলে চলবে না, এখন রাষ্ট্রকেও জেগে উঠতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওরে যেভাবে অনিয়ন্ত্রিত হাউসবোট চলাচল করছে, অভয়ারণ্যে শিকার ও নৌযান চলছে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনে ভোগান্তি নেমে এসেছে - তা শুধু পরিবেশ রক্ষার আইন নয়, মানবতা ও রাষ্ট্রিক দায়িত্ববোধকেও লঙ্ঘন করে। আদালত কর্তৃক তাহিরপুর থানার ওসি ও পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাউসবোটের তালিকা, মালিকানা, বৈধতা এবং পরিবেশ বিধির আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে। এসব নির্দেশনা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আমরা মনে করি, টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় এখন প্রয়োজন একটি সমন্বিত নীতিগত অবস্থান, যেখানে প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, বন বিভাগ, নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় জনগণ সবাই এক সাথে কাজ করবে। প্রয়োজন হলে হাওর ব্যবস্থাপনায় পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠন, জবাবদিহিমূলক পরিবেশ পর্যটন নীতিমালা এবং অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচলে বাঁচবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং হাওরকেন্দ্রিক একটি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও। তাই এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের নির্লিপ্ত থাকা মানে এক ভয়াবহ ধ্বংসকে অনুমোদন দেওয়া। আদালত তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন রাষ্ট্রের পালা- নীরবতা নয়, এবার চাই সাহসী ও কার্যকর পদক্ষেপ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স